আমরা প্রায় সবাই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে অতিরিক্ত চিন্তা বা "ওভারথিংকিং"-এর শিকার হই। একটা ছোট ঘটনা নিয়েও মাথার ভেতর হাজারো সম্ভাবনা, ভয় আর প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে। ফলাফল হিসেবে ঘুম নষ্ট হয়, মনোযোগ কমে যায়, আর মানসিক ক্লান্তি বাড়তে থাকে। অথচ বেশিরভাগ সময় যে বিষয়গুলো নিয়ে আমরা এত ভাবি, বাস্তবে তার প্রভাব অনেক কম। আজকের পোস্টে থাকছে অতিরিক্ত চিন্তা কমানোর ৭টি সহজ ও বাস্তবসম্মত উপায়, যা প্রতিদিনের জীবনে কাজে লাগানো যায়।
অতিরিক্ত চিন্তা কেন হয়?
সাধারণত অনিশ্চয়তা, নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়, অতীতের খারাপ অভিজ্ঞতা কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই ওভারথিংকিং শুরু হয়। মস্তিষ্ক মনে করে বারবার একই বিষয় নিয়ে ভাবলে হয়তো সমাধান পাওয়া যাবে, কিন্তু বাস্তবে এটি সমস্যার সমাধান না করে বরং মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।
১. বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ দিন
অতিরিক্ত চিন্তার বড় একটা কারণ হলো আমরা অতীত বা ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি ভাবি, বর্তমানে থাকি না। যখনই মনে হবে আপনি একই চিন্তা বারবার করছেন, তখন পাঁচটি ইন্দ্রিয় ব্যবহার করে বর্তমানে ফিরে আসার চেষ্টা করুন চারপাশে কী দেখছেন, কী শব্দ শুনছেন, কী অনুভব করছেন তা লক্ষ্য করুন। এই ছোট্ট অভ্যাস মনকে বাস্তবতায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
২. চিন্তাগুলো লিখে ফেলুন
মাথার ভেতর ঘুরতে থাকা চিন্তাগুলো একটা খাতায় বা নোটে লিখে ফেলুন। লেখার সময় চিন্তাগুলো আরও পরিষ্কার হয়ে যায়, আর অনেক সময় দেখা যায় যেসব বিষয় নিয়ে এত ভাবছিলেন, লেখার পর সেগুলো ততটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না। এটি এক ধরনের মানসিক "ডিক্লাটারিং"।
৩. একটা নির্দিষ্ট "চিন্তার সময়" ঠিক করুন
সারাদিন চিন্তা না করে দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়, যেমন সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৭টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত, শুধু চিন্তার জন্য বরাদ্দ রাখুন। দিনের অন্য সময় কোনো চিন্তা মাথায় আসলে সেটা নোট করে রাখুন এবং নিজেকে বলুন, "এটা নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে ভাবব।" এতে চিন্তাগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৪. গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করুন
অতিরিক্ত চিন্তার সময় শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়। ধীরে নিঃশ্বাস নেওয়া এবং ছাড়ার অনুশীলন (যেমন ৪ সেকেন্ড নিঃশ্বাস নেওয়া, ৪ সেকেন্ড ধরে রাখা, ৪ সেকেন্ডে ছাড়া) স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং মস্তিষ্ককে যুক্তিসঙ্গতভাবে চিন্তা করতে সাহায্য করে।
৫. বিশ্বস্ত কারও সাথে কথা বলুন
মনের ভেতর জমে থাকা চিন্তা কাউকে খুলে বললে অনেকটা হালকা লাগে। পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা কাছের মানুষের সাথে কথা বললে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যায়, যা একা একা চিন্তা করে পাওয়া সম্ভব হয় না।
৬. শরীরচর্চা বা হাঁটাহাঁটি করুন
শারীরিক পরিশ্রম মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন নিঃসরণ বাড়ায়, যা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করলে মনোযোগ অন্যদিকে সরে যায় এবং চিন্তার চক্র ভেঙে যায়।
৭. নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করা বন্ধ করুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের জীবনের সাথে নিজের জীবন তুলনা করা অতিরিক্ত চিন্তার অন্যতম বড় কারণ। মনে রাখবেন, প্রত্যেকের জীবনের গতি আলাদা। নিজের অগ্রগতির দিকে মনোযোগ দিন, অন্যের সাথে তুলনা নয়।
👗 মার্জিত ও ট্রেন্ডি মেয়েদের পোশাক দেখতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ:
উপসংহার
অতিরিক্ত চিন্তা একদিনে বন্ধ হয় না, তবে নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। বর্তমানে থাকার চেষ্টা, চিন্তাগুলো লিখে ফেলা, নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখা এবং শারীরিক ও মানসিক যত্নের মাধ্যমে ধীরে ধীরে মন শান্ত করা যায়। মনে রাখবেন, প্রতিটি চিন্তার সমাধান একবারে ভাবার মধ্যে নয়, বরং সঠিক পদক্ষেপের মধ্যে লুকিয়ে থাকে।

Thanks to comment Jibon Somossa official blog. Stay with us for more content. Follow us to Facebook. www.facebook.com/jibonsomossa.blog