রাতের আকাশের দিকে তাকালে মনে হয় শুধু কিছু জ্বলজ্বলে তারা ছড়িয়ে আছে। কিন্তু এই বিশাল মহাবিশ্বের ভেতরে লুকিয়ে আছে এমন সব রহস্য, যা জানলে অবাক হতে হয়। বিজ্ঞানীরা যুগ যুগ ধরে গবেষণা করে মহাকাশ সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য বের করেছেন, যা সাধারণ মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়। আজকের পোস্টে থাকছে মহাকাশ সম্পর্কে এমন ৮টি চমকপ্রদ তথ্য, যা আপনার জ্ঞানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করবে।
১. সূর্য একটি বিশাল পারমাণবিক চুল্লি
সূর্যের ভেতরে প্রতি সেকেন্ডে লক্ষ লক্ষ টন হাইড্রোজেন নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হিলিয়ামে রূপান্তরিত হয়। এই প্রক্রিয়া থেকেই তৈরি হয় বিপুল পরিমাণ আলো ও তাপ, যা পৃথিবীতে পৌঁছাতে প্রায় ৮ মিনিট সময় নেয়। সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রা প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা কল্পনার বাইরে।
২. শনি গ্রহ পানিতে ভাসতে পারে
শনি গ্রহের ঘনত্ব পানির ঘনত্বের চেয়েও কম। তাই তাত্ত্বিকভাবে, যদি এত বড় একটি জলাশয় পাওয়া যেত, তাহলে শনি গ্রহ পানির উপর ভেসে থাকতে পারত। এটি সৌরজগতের একমাত্র গ্রহ যার ঘনত্ব পানির চেয়ে কম।
৩. মহাশূন্যে কোনো শব্দ শোনা যায় না
শব্দ পরিবহনের জন্য বাতাস বা কোনো মাধ্যম প্রয়োজন হয়, কিন্তু মহাশূন্য প্রায় সম্পূর্ণ শূন্যস্থান বা ভ্যাকুয়াম। তাই সেখানে শব্দ তরঙ্গ চলাচল করতে পারে না। মহাকাশে কোনো বিস্ফোরণ ঘটলেও তা সম্পূর্ণ নীরবেই ঘটবে কোনো শব্দ শোনা যাবে না।
৪. নেপচুনের এক বছর সমান পৃথিবীর ১৬৫ বছর
নেপচুন সূর্য থেকে এত দূরে অবস্থিত যে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে তার সময় লাগে প্রায় ১৬৫ পৃথিবী বছর। অর্থাৎ ১৮৪৬ সালে নেপচুন আবিষ্কারের পর থেকে এখন পর্যন্ত এটি সূর্যকে মাত্র একবারই সম্পূর্ণভাবে প্রদক্ষিণ করেছে।
৫. চাঁদ প্রতি বছর পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে
চাঁদ প্রতি বছর পৃথিবী থেকে প্রায় ৩.৮ সেন্টিমিটার করে দূরে সরে যাচ্ছে। এই হার নখ বাড়ার গতির প্রায় সমান। বিজ্ঞানীদের মতে, লক্ষ লক্ষ বছর পর চাঁদ এত দূরে চলে যাবে যে পৃথিবী থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা আর সম্ভব হবে না।
৬. পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বে আছে কোটি কোটি ছায়াপথ
বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বে প্রায় ২ লক্ষ কোটি (২ ট্রিলিয়ন) ছায়াপথ থাকতে পারে, আর প্রতিটি ছায়াপথে থাকতে পারে শত কোটি থেকে লক্ষ কোটি তারা। এই সংখ্যা এতটাই বিশাল যে মানুষের পক্ষে তা কল্পনা করাও কঠিন।
৭. নিউট্রন স্টারের এক চামচ পদার্থের ওজন কোটি টন
নিউট্রন স্টার হলো মৃত তারার এক অতি ঘন অবশিষ্টাংশ। এর ঘনত্ব এতটাই বেশি যে এক চা-চামচ পরিমাণ পদার্থের ওজন হতে পারে প্রায় ১০ কোটি টনেরও বেশি যা পৃথিবীর একটি পাহাড়ের সমান।
৮. মহাশূন্যে মানুষের উচ্চতা সাময়িকভাবে বেড়ে যায়
মহাকর্ষ শূন্য পরিবেশে (Microgravity) মেরুদণ্ডের হাড়গুলোর মধ্যবর্তী ডিস্কগুলো একটু প্রসারিত হয়, যার ফলে মহাকাশচারীরা মহাশূন্যে থাকাকালীন প্রায় ৩-৫ সেন্টিমিটার লম্বা হয়ে যান। তবে পৃথিবীতে ফিরে আসার পর কিছুদিনের মধ্যেই উচ্চতা আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।
উপসংহার
মহাবিশ্ব এমন এক রহস্যময় জগৎ, যার প্রতিটি কোণায় লুকিয়ে আছে অজানা বিস্ময়। বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে প্রতিদিনই নতুন নতুন তথ্য উন্মোচিত হচ্ছে, যা আমাদের ছোট্ট পৃথিবীর গণ্ডি পেরিয়ে চিন্তা করতে শেখায়। মহাকাশ নিয়ে এই আগ্রহই একদিন মানুষকে আরও গভীরভাবে মহাবিশ্ব জানার সুযোগ করে দেবে।

Thanks to comment Jibon Somossa official blog. Stay with us for more content. Follow us to Facebook. www.facebook.com/jibonsomossa.blog