স্মার্টফোনের ব্যাটারি লাইফ বাড়ানোর ৯টি সহজ ও কার্যকরী উপায়
স্মার্টফোন এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু দিনে দুই-তিনবার চার্জ দিতে হলে এটা রীতিমতো বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। ব্যাটারির স্বাস্থ্য ও লাইফ দ্রুত কমে যাওয়ার পেছনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দায়ী আমাদের কিছু ভুল অভ্যাস। নিচে দেওয়া হলো ব্যাটারি লাইফ বাড়ানোর ৯টি সহজ ও কার্যকরী উপায়, যা মেনে চললে আপনার ফোনের ব্যাটারি অনেক বেশি সময় টিকবে।
১. স্ক্রিন ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখুন
স্মার্টফোনের ব্যাটারি খরচের একটি বড় অংশ যায় স্ক্রিনের পেছনে। প্রয়োজনের বেশি ব্রাইটনেস রাখলে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যায়। অটো-ব্রাইটনেস মোড চালু রাখুন অথবা ম্যানুয়ালি মাঝারি মাত্রায় ব্রাইটনেস সেট করুন। এতে চোখের জন্যও আরামদায়ক হয় এবং ব্যাটারিও দীর্ঘ সময় টেকে।
২. ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অ্যাপ বন্ধ রাখুন
অনেক অ্যাপ ব্যবহার না করলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থেকে ব্যাটারি খরচ করতে থাকে। সেটিংস থেকে "ব্যাটারি ইউজেজ" অপশনে গিয়ে দেখুন কোন অ্যাপগুলো সবচেয়ে বেশি ব্যাটারি খরচ করছে এবং প্রয়োজন না হলে সেগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাক্টিভিটি বন্ধ করে দিন।
৩. পুশ নোটিফিকেশন সীমিত করুন
প্রতিটি নোটিফিকেশন স্ক্রিন জ্বালিয়ে দেয় এবং ইন্টারনেট ডেটা ব্যবহার করে, যা ব্যাটারির উপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ করে শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপগুলোর নোটিফিকেশন চালু রাখুন।
৪. ব্যাটারি সেভার মোড ব্যবহার করুন
প্রায় সব স্মার্টফোনেই একটি বিল্ট-ইন ব্যাটারি সেভার মোড থাকে, যা ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাক্টিভিটি, অ্যানিমেশন ও পারফরম্যান্স কিছুটা কমিয়ে ব্যাটারি সাশ্রয় করে। চার্জ কম থাকলে বা দীর্ঘ সময় চার্জ দেওয়ার সুযোগ না থাকলে এই মোড চালু রাখা উচিত।
৫. অপ্রয়োজনে ওয়াইফাই, ব্লুটুথ ও জিপিএস বন্ধ রাখুন
ওয়াইফাই, ব্লুটুথ এবং জিপিএস চালু থাকলে ফোন নিয়মিত সিগন্যাল খুঁজতে থাকে, যা ব্যাটারি খরচ বাড়িয়ে দেয়। ব্যবহার শেষে এগুলো বন্ধ করে রাখার অভ্যাস করুন, বিশেষ করে জিপিএস, কারণ এটি সবচেয়ে বেশি ব্যাটারি খরচ করে।
৬. অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা পরিবেশ এড়িয়ে চলুন
লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি অতিরিক্ত তাপমাত্রায় দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রোদে ফোন ফেলে রাখা, চার্জ দেওয়া অবস্থায় ভারী গেম খেলা বা মোটা কভার লাগিয়ে চার্জ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। এতে ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
৭. সবসময় আসল বা সঠিক চার্জার ব্যবহার করুন
নিম্নমানের বা বেমানান চার্জার ব্যবহার করলে ব্যাটারির উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে এবং ব্যাটারির আয়ু কমে যায়। ফোনের সাথে দেওয়া চার্জার অথবা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত চার্জার ব্যবহার করাই নিরাপদ।
৮. ০-১০০% পুরো চার্জ সাইকেল এড়িয়ে চলুন
ব্যাটারি বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোনের চার্জ ২০% থেকে ৮০%-এর মধ্যে রাখা ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। বারবার সম্পূর্ণ চার্জ শূন্যে নামানো বা রাতভর ১০০% চার্জে রেখে দেওয়া ব্যাটারির ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
৯. অপ্রয়োজনীয় উইজেট ও লাইভ ওয়ালপেপার বন্ধ রাখুন
হোম স্ক্রিনে থাকা লাইভ ওয়ালপেপার এবং একাধিক উইজেট প্রতিনিয়ত ডেটা রিফ্রেশ করে ও প্রসেসর সচল রাখে, যা ব্যাটারি দ্রুত খরচ করে। সাধারণ ওয়ালপেপার ও প্রয়োজনীয় কয়েকটি উইজেট রাখলে ব্যাটারি অনেক বেশি সময় স্থায়ী হয়।
উপসংহার
স্মার্টফোনের ব্যাটারি লাইফ বাড়ানোর জন্য বড় কোনো বিনিয়োগ বা টেকনিক্যাল জ্ঞানের প্রয়োজন নেই, শুধু দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলেই যথেষ্ট। উপরের উপায়গুলো নিয়মিত মেনে চললে ফোনের চার্জ যেমন দীর্ঘ সময় টিকবে, তেমনি ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।
👗বিশেষ ঘোষণা: মেয়েদের জন্য নতুন কালেকশনের ড্রেস দেখতে ভিজিট করুন — [ফেসবুক পেজ]

Thanks to comment Jibon Somossa official blog. Stay with us for more content. Follow us to Facebook. www.facebook.com/jibonsomossa.blog