আমরা প্রায় সবাই জীবনে কোনো না কোনো সময় গুরুত্বপূর্ণ কাজ ফেলে রেখেছি, ভেবেছি "পরে করব"। মাঝে মাঝে এভাবে কাজ পিছিয়ে দেওয়া স্বাভাবিক মনে হলেও, যখন এটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়, তখন তাকে বলা হয় প্রোক্র্যাস্টিনেশন (Procrastination) বা কাজ ফেলে রাখার অভ্যাস। এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে পড়াশোনা, ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
কেন আমরা কাজ ফেলে রাখি?
প্রোক্র্যাস্টিনেশনের পেছনে সাধারণত কাজ নিয়ে ভয়, ব্যর্থতার আশঙ্কা, নিখুঁত করার চাপ, অথবা কাজটি একঘেয়ে বা কঠিন মনে হওয়া এসব কারণ কাজ করে। অনেক সময় সোশ্যাল মিডিয়া বা মোবাইলে সহজলভ্য বিনোদনও মনোযোগ সরিয়ে নেয়, ফলে গুরুত্বপূর্ণ কাজ পিছিয়ে যেতে থাকে।
কাজ ফেলে রাখার ক্ষতিকর দিক
কাজ ফেলে রাখলে শেষ মুহূর্তে চাপ বেড়ে যায়, কাজের মান কমে যায় এবং মানসিক উদ্বেগ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই অভ্যাস চলতে থাকলে আত্মবিশ্বাসও কমে যেতে পারে, কারণ বারবার লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হওয়ার অনুভূতি মনে দাগ কাটে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক এই বদভ্যাস থেকে মুক্তি পাওয়ার কার্যকরী কিছু উপায়।
১. "দুই মিনিটের নিয়ম" মেনে চলুন
কোনো কাজ যদি দুই মিনিটের মধ্যে শেষ করা যায়, তাহলে সেটি সাথে সাথেই করে ফেলুন, পরে করার জন্য ফেলে রাখবেন না। এই ছোট অভ্যাস ধীরে ধীরে বড় কাজেও প্রয়োগ করা যায়।
২. বড় কাজকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করুন
বড় বা জটিল কাজ দেখলে অনেক সময় শুরু করতেই ভয় লাগে। তাই কাজটিকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে নিন। প্রতিটি ছোট অংশ শেষ করার পর যে অগ্রগতি অনুভব করবেন, তা পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।
৩. নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিন (Pomodoro Technique)
২৫ মিনিট একটানা কাজ করে ৫ মিনিট বিরতি নেওয়ার এই পদ্ধতি মনোযোগ ধরে রাখতে এবং কাজ পিছিয়ে দেওয়ার প্রবণতা কমাতে খুবই কার্যকর।
৪. বিভ্রান্তির উৎস দূরে রাখুন
কাজ করার সময় মোবাইল ফোন, সোশ্যাল মিডিয়া নোটিফিকেশন বা অন্য কোনো বিভ্রান্তিকর জিনিস কাছে রাখবেন না। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফোন সাইলেন্ট বা অন্য ঘরে রেখে দিন।
৫. নিজের জন্য বাস্তবসম্মত ডেডলাইন নির্ধারণ করুন
কাজের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ঠিক করে নিলে মনের মধ্যে একটি দায়বদ্ধতা তৈরি হয়, যা কাজ ফেলে রাখার প্রবণতা কমিয়ে দেয়। ডেডলাইন যতটা সম্ভব বাস্তবসম্মত রাখুন, যাতে তা পূরণ করা সম্ভব হয়।
৬. নিখুঁত করার চাপ কমান
অনেকে কাজ শুরু করতে দেরি করেন এই ভয়ে যে, প্রথমবারেই সব নিখুঁত হতে হবে। মনে রাখবেন, শুরু করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরে প্রয়োজনমতো তা উন্নত করা যায়।
৭. কঠিন কাজটি আগে করুন
দিনের শুরুতে সবচেয়ে কঠিন বা অপ্রিয় কাজটি আগে সেরে ফেলার চেষ্টা করুন। এতে সারাদিন সেই কাজ নিয়ে মানসিক চাপ বহন করতে হয় না এবং বাকি কাজগুলো তুলনামূলক সহজ মনে হয়।
৮. অগ্রগতি ট্র্যাক করুন ও নিজেকে পুরস্কৃত করুন
প্রতিদিন কতটুকু কাজ শেষ করলেন তা লিখে রাখুন এবং লক্ষ্য পূরণ করতে পারলে নিজেকে ছোট কোনো পুরস্কার দিন। এই অভ্যাস কাজের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
প্রোক্র্যাস্টিনেশন কি অলসতার মতোই? না, অলসতা মানে কাজ করার ইচ্ছাই না থাকা, কিন্তু প্রোক্র্যাস্টিনেশনে কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও তা পিছিয়ে দেওয়া হয়।
এই অভ্যাস বন্ধ করতে কতদিন লাগে? নিয়মিত চর্চা করলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই লক্ষণীয় পরিবর্তন আসে।
শেষ কথা
কাজ ফেলে রাখার অভ্যাস একদিনে তৈরি হয় না, তাই এটি বদলাতেও কিছুটা সময় ও ধৈর্য লাগে। উপরের উপায়গুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে ধীরে ধীরে এই বদভ্যাস থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব এবং কাজে মনোযোগ ও প্রোডাক্টিভিটি দুটোই বাড়বে।

Thanks to comment Jibon Somossa official blog. Stay with us for more content. Follow us to Facebook. www.facebook.com/jibonsomossa.blog