hh

কিডনি সুস্থ রাখার ৮টি সহজ উপায়


 

আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি হলো কিডনি। এটি প্রতিদিন রক্ত পরিশোধন করে, শরীরের বর্জ্য ও বাড়তি পানি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয় এবং রক্তচাপ ও লবণের ভারসাম্য ঠিক রাখে। কিন্তু সমস্যা হলো, কিডনি নষ্ট হতে শুরু করলে প্রাথমিক অবস্থায় প্রায় কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। যখন বোঝা যায়, তখন অনেক সময় অনেকটা ক্ষতি হয়ে যায়। তাই রোগ হওয়ার আগেই কিডনির যত্ন নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

সুখবর হলো, কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললেই কিডনিকে অনেকদিন সুস্থ রাখা সম্ভব। আজকের পোস্টে সেরকম ৮টি কার্যকরী উপায় নিয়ে আলোচনা করব।

কিডনি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

একজন সুস্থ মানুষের শরীরে দুটি কিডনি থাকে, যা দেখতে সিমের বিচির মতো এবং আকারে প্রায় একটি মুঠোর সমান। প্রতিদিন এই দুটি অঙ্গ শরীরের সমস্ত রক্ত বহুবার ছেঁকে পরিষ্কার করে। এছাড়া কিডনি লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে, হাড় মজবুত রাখতে ভিটামিন ডি সক্রিয় করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ কিডনি ভালো না থাকলে পুরো শরীরেই তার প্রভাব পড়ে।

১. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

পানি কিডনির সবচেয়ে বড় বন্ধু। পর্যাপ্ত পানি পান করলে কিডনি সহজে শরীরের বর্জ্য ও বাড়তি সোডিয়াম বের করে দিতে পারে। পাশাপাশি এতে কিডনিতে পাথর জমার ঝুঁকিও কমে। সাধারণভাবে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করা ভালো। তবে গরমে বা বেশি ঘাম হলে আরও বেশি পানি দরকার হয়। প্রস্রাবের রং হালকা হলুদ থাকলে বুঝবেন পানি যথেষ্ট খাচ্ছেন। আর গাঢ় হলুদ হলে পানি বাড়ানো দরকার। (কিডনির কোনো রোগ থাকলে পানির পরিমাণ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করুন।)

২. লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান

বেশি লবণ খেলে রক্তচাপ বেড়ে যায়, আর উচ্চ রক্তচাপ কিডনির ক্ষতির অন্যতম প্রধান কারণ। আমাদের অনেকেরই খাবারের পাতে বাড়তি লবণ নেওয়ার অভ্যাস আছে। এই অভ্যাস ছাড়তে হবে। এছাড়া চিপস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, আচার ও ফাস্টফুডে প্রচুর লবণ থাকে। এসব যতটা সম্ভব কম খান। রান্নায় লবণের বদলে লেবু, আদা, রসুন বা মসলার স্বাদ ব্যবহার করতে পারেন।

৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

উচ্চ রক্তচাপ কিডনির ছোট ছোট রক্তনালিকে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে কিডনি রক্ত ছাঁকার ক্ষমতা হারাতে থাকে। তাই ৪০ বছর বয়সের পর, বিশেষ করে পরিবারে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস থাকলে, নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন। ডাক্তার ওষুধ দিলে তা নিয়ম মেনে খান, ভালো লাগলেই নিজে থেকে বন্ধ করবেন না।

৪. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন

দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে কিডনির ফিল্টারিং অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই অবস্থাকে ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি বলে। বিশ্বজুড়ে কিডনি বিকলের সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি এটি। তাই মিষ্টি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট কমান, নিয়মিত হাঁটুন এবং রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করুন। ডায়াবেটিস থাকলে বছরে অন্তত একবার কিডনির পরীক্ষা করানো উচিত।

৫. ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া পেইনকিলার খাবেন না

মাথাব্যথা, গা-ব্যথা বা জ্বরে অনেকেই ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে ব্যথানাশক ওষুধ কিনে খান। কিন্তু ইবুপ্রোফেন ও ডাইক্লোফেনাকের মতো নন-স্টেরয়েডাল ব্যথানাশক ওষুধ (NSAIDs) বেশি দিন বা বেশি মাত্রায় খেলে কিডনির রক্ত চলাচল কমে যায় এবং কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ব্যথার ওষুধ প্রয়োজনের বেশি খাবেন না। ব্যথা বারবার ফিরে এলে ডাক্তারকে দেখান।

৬. ধূমপান ও তামাক এড়িয়ে চলুন

ধূমপান কিডনিসহ শরীরের সব অঙ্গের রক্তনালির ক্ষতি করে। কিডনিতে রক্ত চলাচল কমে গেলে তার কাজ করার ক্ষমতাও কমে যায়। এছাড়া ধূমপায়ীদের কিডনি ক্যানসারের ঝুঁকিও বেশি। জর্দা ও গুলও একইভাবে ক্ষতিকর। তাই এখনই ছাড়ার চেষ্টা করুন, কারণ ছাড়ার পর থেকেই শরীর সুস্থ হতে শুরু করে।

৭. সুস্থ ওজন ও নিয়মিত ব্যায়াম

অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা থাকলে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে, আর এই দুটোই কিডনির বড় শত্রু। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটা, সাইকেল চালানো বা হালকা ব্যায়াম করুন। সঙ্গে শাকসবজি, ফল ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি খান এবং ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত চিনি কমান। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং কিডনির ওপর চাপও কমবে।

৮. নিয়মিত কিডনি চেকআপ করান

যেহেতু কিডনি রোগের শুরুতে লক্ষণ প্রায় থাকে না, তাই নিয়মিত পরীক্ষাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। সাধারণ প্রস্রাব পরীক্ষা ও রক্তে সিরাম ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনির অবস্থা জানা যায়। যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস আছে, তাদের বছরে অন্তত একবার এই পরীক্ষা করানো উচিত।

কিডনি সমস্যার কিছু সতর্ক সংকেত

নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন:

  • মুখ, চোখের চারপাশ বা পা ফুলে যাওয়া
  • প্রস্রাবের পরিমাণ হঠাৎ কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া
  • প্রস্রাবে ফেনা বা রক্ত দেখা
  • সবসময় ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করা
  • ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব
  • পিঠের নিচের দিকে ব্যথা

শেষ কথা

কিডনি আমাদের শরীরের নীরব কর্মী। সে প্রতিদিন কোনো অভিযোগ ছাড়াই কাজ করে যায়। তাই তার যত্ন নেওয়াও আমাদের দায়িত্ব। পর্যাপ্ত পানি পান, কম লবণ, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান বর্জন এবং নিয়মিত পরীক্ষা, এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই আপনার কিডনিকে বছরের পর বছর সুস্থ রাখতে পারে। আজ থেকেই শুরু করুন এবং আপনার প্রিয়জনকেও এই বিষয়ে সচেতন করুন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই লেখাটি শুধু সচেতনতার জন্য। কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

বিজ্ঞাপন

নতুন কালেকশন: মেয়েদের স্টাইলিশ ড্রেস

দামে সাশ্রয়ী, মানে সেরা। এখনই আমাদের ফেসবুক পেজে ঘুরে আসুন।

পেজ ভিজিট করুন

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad

Order Now

আমাদের কালেকশন

👗 আমাদের নতুন কালেকশন দেখুন

মেয়েদের পোশাকের সবচেয়ে নতুন ও সাশ্রয়ী কালেকশন পাবেন আমাদের কাছে।

পেজ ভিজিট করুন

বিজ্ঞাপন ব্লকার সনাক্ত হয়েছে

আমাদের সাইট বিনামূল্যে কনটেন্ট দিতে বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভরশীল। অনুগ্রহ করে আপনার Ad Blocker বন্ধ করে পেজটি আবার লোড করুন।