একটি বিশ্বাসের গল্প — সবাই যাকে অকর্মা ভাবত, সে-ই একদিন সবাইকে অবাক করে দিল
(এটি একটি কাল্পনিক অনুপ্রেরণামূলক গল্প)
নদীর ধারে ছোট্ট একটি গ্রাম। সেই গ্রামের স্কুলে পড়ত তুহিন নামের একটি ছেলে। বয়স চৌদ্দ। শান্ত স্বভাবের, কম কথা বলে। কিন্তু স্কুলে সবাই তাকে চিনত অন্য একটি কারণে সে গণিতে ফেল করত, প্রতিবারই।
ক্লাসে শিক্ষক প্রশ্ন করলে তুহিন মাথা নিচু করে বসে থাকত। সহপাঠীরা হাসাহাসি করত। কেউ বলত, "তুহিনকে দিয়ে কিছু হবে না।" কেউ আবার আড়ালে ডাকত "অকর্মা"। কথাগুলো তুহিনের কানে আসত। সে কিছু বলত না, শুধু বুকের ভেতরটা ভারী হয়ে উঠত।
বাড়িতেও অবস্থা ভালো ছিল না। বাবা ছিলেন সামান্য কৃষক। রেজাল্টের দিন বাবা চুপ করে থাকতেন, কিন্তু সেই নীরবতার ভেতরে একটা কষ্ট লুকিয়ে থাকত, যা তুহিন স্পষ্ট বুঝতে পারত। একদিন সে নিজেকেই বলল, "হয়তো আমার দ্বারা পড়াশোনা হবে না। স্কুল ছেড়ে দেওয়াই ভালো।"
সেই বছরই স্কুলে নতুন গণিত শিক্ষক এলেন রহমান স্যার। শান্ত, ধীর স্বভাবের মানুষ। প্রথম দিনেই তিনি সবার খাতা দেখলেন। তুহিনের খাতা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন। তারপর মৃদু হেসে বললেন, "তোমার হাতের লেখাটা তো খুব সুন্দর। সমস্যাটা মনে হয় অন্য কোথাও।"
তুহিন অবাক হলো। এতদিন সবাই তাকে শুধু দোষই দিয়েছে, কেউ কখনো ভালো কিছু খুঁজে দেখেনি।
ছুটির পর স্যার তুহিনকে ডেকে বললেন, "কাল থেকে ছুটির পর আধ ঘণ্টা আমার কাছে এসো। ভয় পেয়ো না, আমি তোমাকে বকব না।"
প্রথম দিন তুহিন ভয়ে ভয়ে গেল। স্যার সরাসরি কঠিন অঙ্ক না দিয়ে একদম গোড়া থেকে শুরু করলেন। যোগ, বিয়োগ, গুণ এমনকি নামতাও। তুহিন লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল। স্যার বললেন, "লজ্জার কিছু নেই। ইমারত যত বড়ই হোক, ভিত্তি মজবুত না হলে দাঁড়াতে পারে না। তোমার ভিত্তিটা আমরা একসাথে শক্ত করব।"
ধীরে ধীরে তুহিন বুঝতে পারল, সে আসলে অঙ্ক বুঝতে পারত না এমন নয়; গোড়ার কিছু বিষয়ে ফাঁক ছিল, আর সেই ফাঁক থেকেই সব গুলিয়ে যেত। স্যারের ধৈর্যের কাছে একটু একটু করে সেই ফাঁক পূরণ হতে লাগল।
কিন্তু পথ সহজ ছিল না। কিছুদিন পর স্কুলের মাসিক পরীক্ষা হলো। তুহিন আগের চেয়ে ভালো করল, তবুও পাশ করতে পারল না। সে ভেঙে পড়ল। পরদিন স্যারের কাছে গিয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, "স্যার, আমাকে দিয়ে আসলে হবে না। আপনি শুধু শুধু সময় নষ্ট করছেন।"
রহমান স্যার তার কাঁধে হাত রেখে বললেন, "তুহিন, গতবার তুমি কত পেয়েছিলে?"
"আঠারো, স্যার।"
"আর এবার?"
"আটাশ।"
স্যার হাসলেন, "তাহলে দেখো, তুমি দশ নম্বর এগিয়েছ। যে এগোয়, সে হারে না। হারে শুধু সে, যে থেমে যায়।"
এই কথাটা তুহিনের বুকে গেঁথে গেল। সেদিন রাতে সে অনেকক্ষণ ভাবল। পরদিন থেকে সে আরও মন দিয়ে পড়তে শুরু করল। ভোরে উঠে পড়ত, রাতে হারিকেনের আলোয় অঙ্ক কষত। ভুল হলে খাতায় লিখে রাখত কেন ভুল হলো। বাবা মাঝে মাঝে চুপচাপ দরজায় দাঁড়িয়ে ছেলের পড়া দেখতেন, কিছু বলতেন না, শুধু চোখে এক নতুন আশার আলো।
এভাবে কেটে গেল প্রায় এক বছর। বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন সবাই স্কুলে জড়ো হয়েছে। তুহিন বুক ধুকধুক করে এককোণে দাঁড়িয়ে। রহমান স্যার ফলাফল পড়তে শুরু করলেন। হঠাৎ গণিতে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্তের নাম বলতেই পুরো মাঠ নিস্তব্ধ হয়ে গেল "তুহিন।"
প্রথমে কেউ বিশ্বাসই করতে পারল না। যে ছেলেকে সবাই "অকর্মা" বলত, সে-ই গণিতে সবার ওপরে! সহপাঠীরা, যারা একদিন হাসাহাসি করত, তারাই আজ হাততালি দিতে লাগল। তুহিনের চোখ ভিজে গেল। সে দৌড়ে গিয়ে রহমান স্যারের পা ছুঁয়ে সালাম করল।
স্যার তাকে টেনে তুলে বললেন, "এটা আমার জয় নয়, তোমার জয়। আমি শুধু পথটা দেখিয়েছি, হেঁটেছ তো তুমি।"
বাবা সেদিন প্রথমবারের মতো ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। তাঁর চোখে ছিল গর্বের জল।
সময় গড়িয়ে গেল। তুহিন কঠোর পরিশ্রম করে পড়াশোনা চালিয়ে গেল, একসময় ইঞ্জিনিয়ার হলো। আজও সে যখন গ্রামে আসে, সবার আগে রহমান স্যারের সাথে দেখা করে। আর নিজের গ্রামের স্কুলের দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা পয়সায় পড়ানোর ব্যবস্থা করেছে, যেন কোনো তুহিনকে আর কেউ "অকর্মা" বলতে না পারে।
গল্পের শিক্ষা
- কেউ পড়াশোনায় বা কাজে পিছিয়ে থাকলেই সে অযোগ্য নয়। হয়তো তার শুধু সঠিক পথ ও সঠিক সহায়তা দরকার।
- একটি ভালো কথা ও আন্তরিক বিশ্বাস একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।
- সবাই আপনাকে অবিশ্বাস করলেও নিজের ওপর বিশ্বাস হারাবেন না।
- ধীরে হলেও এগোতে থাকুন। যে এগোয়, সে একদিন পৌঁছায়।
- ব্যর্থতা শেষ কথা নয়; ব্যর্থতা হলো শেখার সুযোগ।
- আমরা যদি অন্যের ছোট ভালো গুণটিও খুঁজে বের করে তাকে উৎসাহ দিই, তাহলে হয়তো একটি জীবন বদলে যেতে পারে।
শেষ কথা
আপনার আশেপাশেও হয়তো কোনো "তুহিন" আছে, যাকে সবাই ছোট করে দেখে। তার পাশে দাঁড়ান, একটু বিশ্বাস রাখুন। আর আপনি নিজেই যদি কখনো তুহিনের মতো অনুভব করেন, তাহলে মনে রাখবেন আপনার গল্পটা এখনো শেষ হয়নি।
গল্পটি ভালো লাগলে নিচে কমেন্টে জানান এবং এমন কাউকে শেয়ার করুন যার আজ একটু অনুপ্রেরণার প্রয়োজন। আরও গল্প ও টিপসের জন্য আমাদের ব্লগের সাথে থাকুন।
✨ নারীদের জন্য স্টাইলিশ ও আরামদায়ক ড্রেস কালেকশন ✨
সুন্দর ডিজাইন, ভালো মান আর সাশ্রয়ী দাম সবকিছু এক জায়গায়! নতুন নতুন ড্রেসের আপডেট পেতে এখনই আমাদের ফেসবুক পেজ ভিজিট করুন।
👉 পেজ লিংক:
(পেজটি লাইক ও ফলো করে রাখুন, যাতে নতুন কালেকশন মিস না হয়।)

Thanks to comment Jibon Somossa official blog. Stay with us for more content. Follow us to Facebook. www.facebook.com/jibonsomossa.blog