পাখি সম্পর্কে ৮টি আশ্চর্যজনক তথ্য যা আপনি হয়তো জানতেন না
ভোরবেলা ঘুম ভাঙে পাখির ডাকে। আমাদের চারপাশে প্রতিদিন কত পাখি উড়ে বেড়ায়, গান গায়, বাসা বাঁধে। কিন্তু এই ছোট ছোট প্রাণীগুলো সম্পর্কে এমন অনেক তথ্য আছে, যা শুনলে আপনি সত্যিই অবাক হবেন। কোনো পাখি পেছনের দিকে উড়তে পারে, কেউ প্রায় গাড়ির গতিতে দৌড়ায়, আবার কেউ সারা পৃথিবী চক্কর দিয়ে বছরে দুবার মেরু থেকে মেরুতে পাড়ি জমায়।
চলুন, পাখি সম্পর্কে ৮টি আশ্চর্যজনক তথ্য জেনে নিই।
১. হামিংবার্ড একমাত্র পাখি যে পেছনের দিকে উড়তে পারে
হামিংবার্ড পৃথিবীর অন্যতম ছোট পাখি, কিন্তু এর ক্ষমতা অবিশ্বাস্য। এটি ফুলের সামনে এক জায়গায় ভেসে থাকতে পারে, উপরে-নিচে ওড়ে এবং পেছনের দিকেও উড়তে পারে। এটি সম্ভব হয় এর ডানার বিশেষ গঠনের কারণে। ডানা এত দ্রুত ঝাপটায় যে সেকেন্ডে প্রায় ৫০ থেকে ৮০ বার পর্যন্ত নড়ে। এই কারণেই ডানা চোখে প্রায় দেখাই যায় না, শুধু একটা গুঞ্জন শোনা যায়, আর সেখান থেকেই এর নাম হামিংবার্ড।
২. উটপাখি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পাখি, কিন্তু উড়তে পারে না
উটপাখি উচ্চতায় প্রায় ২ থেকে ২.৭ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং ওজন হয় ১০০ কেজির বেশি। এত বড় শরীর নিয়ে সে আকাশে উড়তে পারে না, কিন্তু মাটিতে তার গতি দেখার মতো। উটপাখি ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার গতিতে দৌড়াতে পারে। আরেকটি মজার তথ্য হলো, উটপাখির চোখ এত বড় যে একটি চোখ তার মস্তিষ্কের চেয়েও বড়।
৩. আর্কটিক টার্ন পাখি সবচেয়ে লম্বা পথ পাড়ি দেয়
পরিযায়ী পাখিদের মধ্যে আর্কটিক টার্ন সবার সেরা। এই ছোট সামুদ্রিক পাখি প্রতি বছর উত্তর মেরুর কাছের এলাকা থেকে দক্ষিণ মেরুর কাছের এলাকায় যায়, আবার ফিরে আসে। বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, একটি আর্কটিক টার্ন প্রতি বছর প্রায় ৭০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারে। সারা জীবনে এই পাখি এত পথ ওড়ে, যা পৃথিবী থেকে চাঁদে গিয়ে ফেরার দূরত্বের কাছাকাছি। এর সঙ্গে আরেকটি সুবিধা হলো, সে দুই মেরুতেই গ্রীষ্মকালের দীর্ঘ দিনের আলো পায়।
৪. পেঙ্গুইন উড়তে পারে না, কিন্তু সাঁতারে ওস্তাদ
পেঙ্গুইন পাখি হয়েও আকাশে ওড়ে না। এর ডানা বিবর্তনের ফলে দাঁড় বা ফ্লিপারের মতো হয়ে গেছে, যা দিয়ে সে পানির নিচে অসাধারণ গতিতে সাঁতার কাটে। সম্রাট পেঙ্গুইন প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে ডিম পায়ের ওপর রেখে পেটের ভাঁজের নিচে গরম রাখে। এই সময় বাবা পেঙ্গুইন অনেক সপ্তাহ কিছু না খেয়ে ডিম আগলে রাখে। সত্যিই এক অসাধারণ পিতৃত্বের উদাহরণ।
৫. পেরেগ্রিন ফ্যালকন পৃথিবীর দ্রুততম প্রাণী
শুধু পাখি নয়, পুরো প্রাণীজগতের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগামী প্রাণী হলো পেরেগ্রিন ফ্যালকন। শিকার ধরার জন্য যখন এটি আকাশ থেকে নিচের দিকে ঝাঁপ দেয়, তখন এর গতি ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি হতে পারে। এটি অনেক দ্রুতগামী ট্রেনের গতির চেয়েও বেশি। এত গতিতে নামার সময়ও এর চোখ ও শরীর নিয়ন্ত্রণে থাকে, কারণ এর নাকের ছিদ্রে বিশেষ গঠন আছে, যা প্রচণ্ড বাতাসের চাপে শ্বাস নিতে সাহায্য করে।
৬. পেঁচা তার মাথা প্রায় পুরো ঘুরিয়ে ফেলতে পারে
পেঁচার চোখ মাথার সামনের দিকে স্থির থাকে, তাই সে চোখ নড়াতে পারে না। এর বদলে প্রকৃতি তাকে দিয়েছে অসাধারণ নমনীয় ঘাড়। পেঁচা তার মাথা প্রায় ২৭০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘোরাতে পারে। মানুষের ঘাড়ে ৭টি হাড় থাকে, আর পেঁচার ঘাড়ে থাকে ১৪টি। এর সঙ্গে রক্তনালীর বিশেষ ব্যবস্থা থাকার কারণে মাথা ঘোরালেও মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালন বন্ধ হয় না। আর রাতের অন্ধকারে শিকার ধরতে পেঁচার শ্রবণশক্তিও অসাধারণ।
৭. পায়রা শত শত কিলোমিটার দূর থেকে বাড়ি ফিরে আসতে পারে
বহু শতাব্দী আগে মানুষ চিঠি পাঠানোর জন্য পায়রা ব্যবহার করত, আর এর পেছনে ছিল এই পাখির দিকনির্ণয়ের অসাধারণ ক্ষমতা। গবেষকদের মতে, পায়রা সূর্যের অবস্থান, পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র এবং চেনা জায়গার চিহ্ন দেখে পথ চিনে নেয়। এভাবে অচেনা জায়গা থেকে ছেড়ে দিলেও শত শত কিলোমিটার দূর থেকে নিজের বাসায় ফিরে আসতে পারে। এই কারণে হোমিং পায়রা বা চিঠি বহনকারী পায়রা নামে এরা বিখ্যাত ছিল।
৮. দোয়েল আমাদের জাতীয় পাখি, যার গান মনকে ছুঁয়ে যায়
বাংলাদেশের জাতীয় পাখি দোয়েল। এর কালো-সাদা পালক আর লম্বা লেজ সহজেই চোখে পড়ে। তবে দোয়েলের আসল পরিচয় তার সুরেলা শিসে। ভোরবেলা বা বসন্তে এই পাখি নানা সুরে গান গায়, যা শুনতে অসাধারণ লাগে। গ্রামবাংলার বাগান, বাড়ির আঙিনা আর শহরের ছোট গাছেও দোয়েলকে দেখা যায়। এটি আমাদের প্রকৃতি ও সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অতিরিক্ত মজার তথ্য: পাখি আসলে ডাইনোসরের বংশধর
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, আজকের পাখিরা প্রাচীন ডাইনোসরের এক শাখা থেকে বিবর্তিত হয়েছে। জীবাশ্ম গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ডাইনোসরের শরীরে পালক ছিল। অর্থাৎ, ভোরে আপনার জানালার পাশে যে চড়ুই বা শালিক বসে ডাকে, সে লক্ষ লক্ষ বছর আগের এক বিশাল প্রাণীগোষ্ঠীরই আধুনিক রূপ।
পাখি রক্ষা করা কেন জরুরি?
পাখি শুধু দেখতে সুন্দর নয়, প্রকৃতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরা পোকামাকড় খেয়ে ফসলকে রক্ষা করে, ফুলের পরাগায়ণে সাহায্য করে এবং বীজ ছড়িয়ে নতুন গাছ জন্মাতে সাহায্য করে। কিন্তু গাছ কাটা, বাসস্থান ধ্বংস, দূষণ ও অবৈধ শিকারের কারণে অনেক পাখি আজ বিপন্ন। আমরা ছোট ছোট কাজ করেই পাখিদের বাঁচাতে পারি:
- বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় পাত্রে পানি ও খাবার রাখা
- বেশি করে গাছ লাগানো
- পাখি শিকার ও খাঁচায় বন্দি করা থেকে বিরত থাকা
- শিশুদের ছোটবেলা থেকেই পাখি ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা শেখানো
শেষ কথা
পাখিদের জগৎ বিস্ময়ে ভরা। ছোট্ট হামিংবার্ডের পেছনে ওড়া থেকে শুরু করে আর্কটিক টার্নের পৃথিবী-পাড়ি দেওয়া, প্রতিটি পাখিই প্রকৃতির এক একটি অসাধারণ সৃষ্টি। এরপর যখন ভোরে পাখির ডাক শুনবেন, একটু থেমে ভাববেন, এই ছোট প্রাণীগুলো কত রহস্য আর ক্ষমতা নিয়ে আমাদের চারপাশে বেঁচে আছে।
আপনার প্রিয় পাখি কোনটি? নিচে কমেন্টে জানান, আর এই মজার তথ্যগুলো বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না।
Sponsored
👗 মেয়েদের স্টাইলিশ ড্রেস কালেকশন
নতুন ডিজাইনের আরামদায়ক ও ট্রেন্ডি ড্রেস দেখতে এবং অর্ডার করতে আমাদের Facebook পেজ ভিজিট করুন।
এখনই দেখুন 👉
👗 মেয়েদের স্টাইলিশ ড্রেস কালেকশন
নতুন ডিজাইনের আরামদায়ক ও ট্রেন্ডি ড্রেস দেখতে এবং অর্ডার করতে আমাদের Facebook পেজ ভিজিট করুন।
এখনই দেখুন 👉

Thanks to comment Jibon Somossa official blog. Stay with us for more content. Follow us to Facebook. www.facebook.com/jibonsomossa.blog